মুন্সীগঞ্জ শহীদ মিনার এখন সিএনজি-অটোরিকশার স্ট্যান্ড
মুন্সীগঞ্জ শহরের পুরাতন কাচারীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এখন সিএনজি-অটোরিকশার স্ট্যান্ড। শহীদ মিনার চত্বর হয়ে উঠেছে মাদকসেবীদের অভয়ারণ্য ভূমিতে। সরেজমিনে দেখা যায় শহীদ মিনার প্রাঙ্গনে ময়লা আবজনা, বাদামের খোসা ও মাদকসেবীদের ফেলে রাখা ফেনসিডিলের বোতল যত্রতত্র ভাবে পরে আছে।
একদিকে, রাতের বেলায় নেই পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা মিনার চত্বরে। এতে সাধারণ মানুষের মতে জেগেছে নানা প্রশ্ন? কেন জেলার এমন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে এমন বেহাল দশা। এর রক্ষণাবেক্ষণ সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের উদাসীন বলছেন। তারা সারাবছর পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন ও মাদকসেবী মুক্ত চায়।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, জেলা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বরে ৫০ থেকে ৬০টি অটোরিকশা, মিশুক ও সিএনজি গাড়ি স্ট্যান্ড করে আছে। চত্বরে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে আছে কাগজ বাদামের খোসা, পরে আছে গাছের গাছের পাতা, পশ্চিম কর্নারে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে আছে ২৫-২৬ টি ফেনসিডিলের বোতল।
জানা যায়, শুধু একুশে ফেব্রুয়ারী এলেই শুরু হয় শহীদ মিনার ধোঁয়ামোছা ও সংস্কারের কাজ। প্রতি বছর এভাবেই চলে। বছরের বাকি সময়টায় শহীদ মিনার পড়ে থাকে অযত্ন-অবহেলায়। অটোরিকশা ও সিএনজির পাকিং হিসেবে ব্যবহার করে স্থানীয় শ্রমিক নেতারা।
এ বিষয়ে মুন্সীগঞ্জ সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সাবেক সভাপতি ও মুন্সীগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট সুজন হায়দার জনি বলেন, নির্মাণের পর থেকেই শহীদ মিনারটি অরক্ষিত। বারংবার স্থানীয় প্রশাসনকে বিনয়ের সাথে অনুরোধ করার পরেও অজ্ঞাত কারণে শহীদ মিনারের পরিবেশ রক্ষায় উদ্যোগ গ্রহণ করেননি তারা। একদিকে সীমানা প্রাচীর না থাকায় শহীদ মিনারটি অরক্ষিত থাকায় যত্রতত্র সিএনজি ও অটোরিকশা স্ট্যান্ডে পরিনত হয়েছে শহীদ মিনার চত্ত্বর।
অপরদিকে, প্রতিদিন রাতে এখানে বসে মাদকসেবিদের আড্ডা। বিষয়টি জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশানকে অনেকবার জানানো হয়েছে। কিন্তু ফলাফল কিছু হয়নি। ভাষা শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর এই স্মৃতির স্মারক শুধু ২১শে ফেব্রুয়ারিতেই দায়সারাভাবে পরিচ্ছন্ন করলে হবে না। শহীদ মিনারের পবিত্রতা রক্ষায় বছরজুড়ে তৎপর থাকতে হবে বলে মনে করেন তিনি।
কি কারণে সিএনজি ও অটোরিকশা স্ট্যান্ড এখান থেকে সরানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না সে প্রশ্ন রাখেন তিনি প্রশাসনের প্রতি। এছাড়া শহীদ মিনারের পবিত্রতা রক্ষায় স্থানীয় নাগরিকদেরও আন্তরিক ও যত্নবান হবার আহবান জানান তিনি।
মুন্সীগঞ্জ পৌরসভার ভারপ্রাপ্ত মেয়র সোহেল রানা রানু বলেন, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস, আমাদের চেতনার জায়গা। কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বরে আগে আলোর ব্যবস্থা ছিলো না। আমরা আলোর ব্যবস্থা করেছি। মুন্সীগঞ্জ পৌরসভা সমসময়ই পরিস্কার পরিচ্ছন্ন করে। কিছু মানুষ সমাজে নিকৃষ্টতম যারা এখানে মাদক সেবন করে। আমি সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের সহযোগিতা চাই।
সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আফিফা খান বলেন, আমিও দেখেছি বিষয়টি। এর আগেও আমি ব্যবস্থা নিয়েছিলাম। পরিষ্কার করে সাইনবোর্ড সার্টানো হয়েছিলো। আমি আগামী আইনশৃঙ্খলা মিটিং এ বিষয়টা উপস্থাপন করবো। সংশ্লিষ্টদের নিয়ে ব্যবস্থা নিবো।
